Type Here to Get Search Results !

শীতে ত্বক উজ্জ্বল রাখার সহজ উপায়

শীতে ত্বক উজ্জ্বল রাখার সহজ উপায়

শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক দ্রুত শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। তবে ঘরোয়া কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে শীতেও ত্বক রাখা যায় উজ্জ্বল ও সতেজ।

নিচে শীতে ত্বক উজ্জ্বল রাখার কার্যকর কিছু উপায় দেওয়া হলো:

১. আর্দ্রতা বজায় রাখা (Moisturizing)

Moisturizing

ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার: মুখ ধোয়ার পর ত্বক পুরোপুরি শুকানোর আগেই ময়েশ্চারাইজার বা ফেসিয়াল অয়েল লাগান। এতে ত্বকের আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে।

সঠিক ক্রিম নির্বাচন: এই সময় হালকা লোশনের বদলে একটু ভারী বা ক্রিমি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো।

২. সঠিক পরিষ্কারকরণ (Cleansing)
Cleansing

অতিরিক্ত গরম পানি বর্জন: খুব গরম পানি দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। পরিবর্তে কুসুম কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।

মাইল্ড ফেসওয়াশ: সাবান বা কড়া ফেসওয়াশ এড়িয়ে চলুন। গ্লিসারিন সমৃদ্ধ বা মাইল্ড ক্লিনজার বেছে নিন।

৩. স্ক্রাবিং বা এক্সফোলিয়েশন
স্ক্রাবিং বা এক্সফোলিয়েশন

মৃত কোষ দূর করতে সপ্তাহে ১-২ দিন স্ক্রাব করুন। তবে বাজারে কেনা স্ক্রাবের চেয়ে চিনি ও মধুর মিশ্রণ বা ওটমিল ব্যবহার করা ত্বকের জন্য বেশি নিরাপদ।

৪. প্রাকৃতিক ফেসপ্যাকের ব্যবহার
প্রাকৃতিক ফেসপ্যাকের ব্যবহার

ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে বাড়িতে তৈরি এই প্যাকগুলো ট্রাই করতে পারেন:
মধু ও দুধ: ১ চামচ মধু ও ২ চামচ দুধ মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। এটি ত্বককে ভেতর থেকে নরম করে।

বেসন ও দই: ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বেসন, টক দই এবং এক চিমটি হলুদের মিশ্রণ খুব কার্যকর।

অ্যালোভেরা জেল: রাতে ঘুমানোর আগে ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল ম্যাসাজ করলে ত্বকের রুক্ষতা দূর হয়।

৫. সানস্ক্রিন ভুলবেন না

অনেকে মনে করেন শীতে রোদের তেজ কম থাকে বলে সানস্ক্রিন দরকার নেই। কিন্তু শীতের মিষ্টি রোদও ত্বকের পিগমেন্টেশনের বড় কারণ। তাই বাইরে বের হওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগান।

৬. অভ্যন্তরীণ যত্ন (Diet & Hydration)

 অভ্যন্তরীণ যত্ন (Diet & Hydration)

পর্যাপ্ত পানি পান: শীতে তৃষ্ণা কম পায় বলে আমরা পানি কম খাই। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।

মৌসুমি ফল ও সবজি: কমলালেবু, গাজর, পালং শাক ও টমেটো প্রচুর পরিমাণে খান। এগুলোতে থাকা ভিটামিন-সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে।

টিপস: রাতে ঘুমানোর আগে এক ফোঁটা গ্লিসারিন ও দুই ফোঁটা গোলাপ জল মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। এটি সেরা প্রাকৃতিক নাইট সিরাম হিসেবে কাজ করে।

শুষ্ক ত্বক Dry Skin

শুষ্ক ত্বক Dry Skin

শুষ্ক ত্বকের জন্য শীতকাল একটু বেশিই চ্যালেঞ্জিং। এই সময়ে আপনার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ত্বকে তেলের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আর্দ্রতা (Hydration) ফিরিয়ে আনা।

শুষ্ক ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে নিচে কয়েকটি কার্যকর ও সহজ ঘরোয়া প্যাক এবং যত্নের টিপস দেওয়া হলো:

১. মধুর ময়েশ্চারাইজিং প্যাক

মধু হলো প্রাকৃতিক হিউমেক্ট্যান্ট, যা বাতাস থেকে আর্দ্রতা টেনে ত্বকে ধরে রাখে।

ব্যবহার: ১ টেবিল চামচ মধুর সাথে ১ চা চামচ খাঁটি দুধের সর বা মালাই মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে তাৎক্ষণিক নরম ও উজ্জ্বল করবে।

২. কলার হাইড্রেটিং মাস্ক

পাকা কলায় প্রচুর পটাশিয়াম ও ভিটামিন থাকে যা শুষ্ক ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করে।

ব্যবহার: অর্ধেকটা পাকা কলা চটকে তার সাথে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের খসখসে ভাব দূর করে।

৩. দুধ ও গ্লিসারিন ক্লিনজার

শুষ্ক ত্বকে সাধারণ ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বক আরও টেনে ধরে।

ব্যবহার: কাঁচা দুধে তুলা ভিজিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। দুধের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বক পরিষ্কার করে এবং গ্লিসারিন ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে।

৪. তেলের ম্যাসাজ (Night Care)

রাতে ঘুমানোর আগে অ্যালমন্ড অয়েল (কাঠবাদাম তেল) বা ভিটামিন-ই অয়েল ২-৩ ফোঁটা হাতের তালুতে ঘষে হালকা গরম করে মুখে ম্যাসাজ করুন। এটি আপনার ত্বকের ন্যাচারাল গ্লো ফিরিয়ে আনবে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য বিশেষ সতর্কতা:

বেসন বা মুলতানি মাটি এড়িয়ে চলুন: এগুলো ত্বককে আরও শুষ্ক করে দেয়। ফেসপ্যাক হিসেবে বেসনের বদলে ওটমিল পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যালকোহল-মুক্ত টোনার: গোলাপ জল ব্যবহার করুন, কারণ সাধারণ টোনারে অ্যালকোহল থাকতে পারে যা শুষ্ক ত্বকের ক্ষতি করে।

খাদ্যাভ্যাস: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদাম ও মাছের তেল খাদ্যতালিকায় রাখুন।


তৈলাক্ত ত্বক OIL SKIN

তৈলাক্ত ত্বক OIL SKIN

শীতকালে তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নেওয়া একটু কৌশলী হতে হয়। কারণ, অতিরিক্ত ভারী ক্রিম ব্যবহার করলে ব্রণ (Pimples) হওয়ার ভয় থাকে, আবার কিছু না লাগালে ত্বক কালচে ও প্রাণহীন দেখায়।

তৈলাক্ত ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে নিচের উপায়গুলো অনুসরণ করতে পারেন:

১. জেল-বেজড ময়েশ্চারাইজার

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তেলযুক্ত ক্রিমের বদলে ওয়াটার-বেজড বা জেল-বেজড ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। অ্যালোভেরা জেল এই সময়ের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প। এটি ত্বককে তেলতেলে না করেই আর্দ্র রাখে।

২. মুলতানি মাটি ও গোলাপ জলের প্যাক

শীতেও তৈলাক্ত ত্বকে ধুলোবালি জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়।

ব্যবহার: ১ টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সাথে পরিমাণমতো গোলাপ জল মিশিয়ে মুখে লাগান। শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ধুয়ে ফেলুন। এটি অতিরিক্ত তেল শুষে নিয়ে ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল করবে।

৩. কমলালেবুর খোসা ও দই

অলিভ স্কিন বা তৈলাক্ত ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে এটি জাদুর মতো কাজ করে।

ব্যবহার: শুকনো কমলালেবুর খোসা গুঁড়ো করে তার সাথে সামান্য টক দই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এটি ত্বকের মরা কোষ দূর করে প্রাকৃতিক গ্লো আনে।

৪. নিম ও মধুর ফেসওয়াশ

শীতে তৈলাক্ত ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বেড়ে ব্রণ হতে পারে। তাই নিম সমৃদ্ধ ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন অথবা সামান্য মধুর সাথে নিম পাতা বাটা মিশিয়ে সপ্তাহে দুই দিন মুখ পরিষ্কার করুন।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বিশেষ কিছু টিপস:

গরম পানি ব্যবহারে সাবধান: খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার করলে ত্বক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে, ফলে ত্বককে রক্ষা করতে শরীরের গ্রন্থিগুলো আরও বেশি তেল (Sebum) উৎপন্ন করে। তাই সবসময় স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করুন।

ডাবল ক্লিনজিং: বাইরে থেকে ফিরলে প্রথমে কোনো অয়েল-ফ্রি ক্লিনজার বা মিচেলার ওয়াটার দিয়ে মেকআপ ও ময়লা পরিষ্কার করুন, তারপর ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন।

টোনিং: মুখ ধোয়ার পর অবশ্যই গোলাপ জল বা শশার রস টোনার হিসেবে ব্যবহার করুন। এটি লোমকূপ ছোট রাখতে সাহায্য করে।

একটি সহজ নাইট রুটিন: রাতে ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করে শুধু অ্যালোভেরা জেল বা খুব পাতলা কোনো হাইড্রেটিং সিরাম ব্যবহার করুন। এতে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ত্বক তেলতেলে দেখাবে না, বরং উজ্জ্বল লাগবে।